এবিসি আইডিয়াল স্কুল — অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম আর্টিকেল ও PDF রিসোর্স

এবিসি আইডিয়াল স্কুল

Online Learning & Resource Hub
এবিসি আইডিয়াল স্কুল
হোম ছোট সোনামনিদের জন্য সম্পর্কে যোগাযোগ বিশ্বকোষ এবিসি চ্যাট বট AI লেখা সহায়ক দোয়ার ভাণ্ডার Sitemap Disclaimer Privacy Terms and conditions ব্লগ — সকল আর্টিকেল PDF রিসোর্স নোটিশ
সর্বশেষ আপডেট
জ্ঞান • শিক্ষা • প্রযুক্তি

শিক্ষা এখন আরও সহজ, আধুনিক ও অনলাইন

এবিসি আইডিয়াল স্কুল একটি অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা ও রিসোর্স প্ল্যাটফর্ম—যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য আর্টিকেল, নোটিশ, PDF ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ একসাথে পাওয়া যাবে।

অনলাইন স্কুলের সুবিধাসমূহ

একটি ভবননির্ভর প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে শিক্ষার উপকরণ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

শিক্ষামূলক আর্টিকেল

বিষয়ভিত্তিক সহজ ও তথ্যবহুল লেখা।

PDF রিসোর্স

নোট, প্রশ্নপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ PDF।

মোবাইল ফ্রেন্ডলি

ফোন থেকেই দ্রুত ব্যবহারযোগ্য।

যেকোনো সময়

প্রয়োজনীয় রিসোর্স ২৪/৭ খুঁজে নেওয়ার সুবিধা।

একটি ভবন নয়, একটি ডিজিটাল শিক্ষাঙ্গন

এবিসি আইডিয়াল স্কুলের অনলাইন পরিচয় শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞান, তথ্য ও শিক্ষাসামগ্রীকে আরও সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে তৈরি।

নিয়মিত নতুন কনটেন্ট
PDF ডাউনলোড সুবিধা
বিষয়ভিত্তিক আর্টিকেল
সহজ মোবাইল নেভিগেশন

PDF ও শিক্ষাসামগ্রী

সব দেখুন
নতুন PDF ও শিক্ষামূলক নোটPDF লেবেলযুক্ত পোস্টগুলো দেখুন
দেখুন
প্রশ্নপত্র ও সাজেশনপরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য
দেখুন
ডাউনলোড রিসোর্সপ্রয়োজনীয় ফাইল সংগ্রহ করুন
সংগ্রহ

এবিসি আইডিয়াল স্কুল

অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা ও তথ্যভান্ডার। এখানে প্রতিষ্ঠানিক ভবনের পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

  • আর্টিকেল ও ব্লগ
  • PDF ও নোট
  • নোটিশ ও আপডেট

সর্বশেষ আর্টিকেল

শিক্ষা, প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নতুন পোস্টগুলো এখানে দেখুন।

abc

Currency Converter

মুদ্রা রূপান্তরকারী

মুদ্রা রূপান্তরকারী

অনুগ্রহ করে একটি সঠিক পরিমাণ দিন।
বিনিময় হার আনা হচ্ছে...
আরও পড়ুন
abc

মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা

রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় কী পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়ক হিসেবে ব্যবহার করেন, কী, পরিমাণ উৎপাদ ও পার্শ্ব উৎপাদ এবং কী পরিমাণে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপন্ন হয় তা রসায়নবিদগণের হিসাব করা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রাসায়নিক শিল্পে আর্থিক বিবেচনায় এই হিসাব অত্যাবশ্যকীয়। এজন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত ও উৎপন্ন পদার্থের অণুর সংখ্যা, অণুতে পরমাণু ও আয়নের সংখ্যা গণনা করতে হয়। রসায়নবিদগণ অণু, পরমাণু ও আয়ন গণনার জন্য একটি বৃহৎ সংখ্যা ব্যবহার করেন। এই সংখ্যার মান 6.023 × 10²³ । 6.023 × 10²³ সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন ধারণকারী পদার্থের পরিমাণকে মোল বলে। রসায়নে অণু পরমাণু বিক্রিয়ক, উৎপাদ ইত্যাদি হিসাব নিকাশ স্টয়কিওমিতি নামে পরিচিত।

অধ্যায়ের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী

আমেদিও অ্যাভোগাড্রো: আমেদিও অ্যাভোগাড্রো (৯ আগস্ট ১৭৭৬ – ৯ জুলাই ১৮৫৬) ইতালীয় রসায়নবিদ। তাঁর নামানুসারে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার নাম রাখা হয়েছে। এটি একটি ধ্রুবসংখ্যা, যা N দ্বারা সূচিত হয়। N = 6.023 × 10²³। বিভিন্ন পদ্ধতিতে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার নির্ণীত মানের মধ্যে পার্থক্য অতি সামান্য। উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধেই সর্বপ্রথম গ্যাসের গতিতত্ত্ব থেকে এ মান প্রাক্কলন করা হয়। N এর সবচেয়ে নির্ভুল মান পাওয়া যায় রঞ্জনরশ্মি পরিমাপ এবং ঘনত্ব উপাত্ত থেকে। অতি সাম্প্রতিকালের পরিমাপসমূহ থেকে এর যে মান পাওয়া গেছে তা হলো 6.02210 × 10²³।

জন ডাল্টন: রসায়নবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ জন ডাল্টন (৬ সেপ্টেম্বর ১৭৬৬ ২৭ জুলাই ১৮৪৪) আধুনিক পরমাণুতত্ত্ব প্রস্তাবনার জন্য বিখ্যাত। ২৭ বছর বয়সে তিনি ম্যানচেস্টার কলেজে গণিত ও দর্শন বিষয়ের ওপর শিক্ষকতা করেন। ১৮০০ সালে তিনি 'গ্যাস প্রসারণ সূত্র' ও 'গ্যাসের চাপ সূত্র' প্রকাশ করেন। আবিষ্কার করেন গ্যাসের তরলীকরণের উপায়। তিনি পরমাণুর সাংকেতিক চিহ্ন ও পরমাণুর ওজন নিয়েও গবেষণা করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮২৬ সালে ডাল্টন রয়েল সোসাইটি কর্তৃক পুরস্কৃত হন।

এক নজরে বিভিন্ন যৌগের রাসায়নিক নাম ও সংকেত

যৌগের রাসায়নিক নাম সংকেত যৌগের রাসায়নিক নাম সংকেত
সালফিউরিক এসিড H2SO4 ম্যাগনেসিয়াম নাইট্রেট Mg(NO3)2
অ্যালুমিনিয়াম সালফেট Al2(SO4)3 ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড MgO
গ্লুকোজ C6H12O6 সোডিয়াম কার্বনেট Na2CO3
বেনজিন C6H6 অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড Al2O3
ইথিন C2H4 ব্লু ভিট্রিওল/তুঁতে CuSO4·5H2O

এক নজরে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া

1. 2H2 + O2 → 2H2O
2. C(s) + O2(g) → CO2(g)
3. 2Mg(NO3)2   Δ   2MgO + 4NO2 + O2
4. Mg + 2HCl → MgCl2 + H2
5. Na2CO3 + HCl → NaCl + H2O + CO2
6. Al2O3 + 6HCl = 2AlCl3 + 3H2O
7. 2Mg(s) + O2(g) → 2MgO(s)

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মোল: কোনো পদার্থের যে পরিমাণের মধ্যে 6.023 × 10²³টি পরমাণু, অণু বা আয়ন থাকে সেই পরিমাণকে ঐ পদার্থের মোল বলা হয়।

অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা: অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার মান 6.023 × 10²³

মোলার আয়তন: এক মোল গ্যাসীয় পদার্থ যে আয়তন দখল করে তাকে ঐ গ্যাসের মোলার আয়তন বলে। প্রমাণ অবস্থায় 1 মোল গ্যাসের আয়ন 22.4 লিটার।

মোলার দ্রবণ: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় 1 লিটার দ্রবণের মধ্যে যদি এক মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে তাকে ঐ দ্রবণকে মোলার দ্রবণ বা এক মোলার দ্রবণ বলা হয়।

দ্রব: দ্রাবকে যে পদার্থ দ্রবীভূত করে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাকে দ্রব বলে। লবণ পানির মিশ্রণে লবণ দ্রব এবং পানি দ্রাবক।

মোলারিটি: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় 1 লিটার দ্রবণের মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে তাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলা হয়।

সেমিমোলার দ্রবণ: 1 লিটার দ্রবণের মধ্যে 0.5 মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে সেমিমোলার দ্রবণ বলা হয়।

ডেসিমোলার দ্রবণ: 1 লিটার দ্রবণের মধ্যে যদি 0.1 মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে ডেসিমোলার দ্রবণ বলে।

শতকরা সংযুতি: কোনো যৌগের 100 গ্রামের মধ্যে কোনো মৌল যত গ্রাম থাকে তাকে ঐ মৌলের শতকরা সংযুতি বলে। 

মৌলের শতকরা সংযুতি = (মৌলের পারমাণবিক ভর × পরমাণুর সংখ্যা × ১০০%) ÷ যৌগের আণবিক ভর

স্থূল সংকেত: যে সংকেত দ্বারা অণুতে বিদ্যমান পরমাণুগুলোর অনুপাত প্রকাশ করে তাকে স্থূল সংকেত বলে।

রাসায়নিক বিক্রিয়া: যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক মৌল বা যৌগ রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন এক বা একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয় তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে।

স্টয়কিওমিতি: রাসায়নিক সমীকরণ থেকে মোলের হিসাব সংক্রান্ত যে তথ্যসমূহ লেখা হয় তা ঐ বিক্রিয়ার স্টয়কিওমিতি (Stoichiometry)।

লিমিটিং বিক্রিয়ক: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে শেষ হয়ে যায় সেই বিক্রিয়ককে লিমিটিং বিক্রিয়ক বলে।

অ্যানালার: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত যে বিক্রিয়ক সবচেয়ে বেশি (99%) বিশুদ্ধ তাকে অ্যানালার বলে।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:

১। মোল কাকে বলে?

কোনো পদার্থের যে পরিমাণের মধ্যে 6.023 × 10²³ টি পরমাণু, অণু বা আয়ন থাকে সেই পরিমাণকে ঐ পদার্থের মোল বলা হয়।

২। মোলারিটি কাকে বলে?

একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় 1 লিটার দ্রবণের মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে তাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলা হয়।

৩। মোলার আয়তন কাকে বলে?

এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে।

৪। সেমিমোলার দ্রবণ কাকে বলে?

1 লিটার দ্রবণের মধ্যে 0.5 মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে সেমিমোলার দ্রবণ বলা হয়।

৫। ডেসিমোলার দ্রবণ কাকে বলে?

1 লিটার দ্রবণের মধ্যে যদি 0.1 মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে ডেসিমোলার দ্রবণ বলে।

৬। মোলার দ্রবণ কাকে বলে?

একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় 1 লিটার দ্রবণের মধ্যে যদি এক মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে তাকে ঐ দ্রবণকে মোলার দ্রবণ বা এক মোলার দ্রবণ বলা হয়।

৭। 1 ppm কী?

ppm মানে parts per million. 1 ppm = 1 mg/L

৮। দ্রব কাকে বলে?

দ্রাবকে যে পদার্থ দ্রবীভূত করে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাকে দ্রব বলে।

৯। প্রমাণ তাপমাত্রা কাকে বলে?

0°C বা 273 K তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা বলে।

১০। স্থূল সংকেত কী?

যে সংকেত দ্বারা অণুতে বিদ্যমান পরমাণুগুলোর অনুপাত প্রকাশ করে তাকে স্থূল সংকেত বলে।

১১। আণবিক সংকেত কাকে বলে?

কোনো যৌগের অণুস্থিত প্রতিটি মৌলের পরমাণুগুলোর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রতীকের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত রূপে প্রকাশ করাকে যৌগটির আণবিক সংকেত বলে।

১২। শতকরা সংযুতি কী?

কোনো যৌগের 100 গ্রামের মধ্যে কোনো মৌল যত গ্রাম থাকে তাকে ঐ মৌলের শতকরা সংযুতি বলে।

১৩। স্টয়কিওমিতি (Stoichiometry) কী?

রাসায়নিক সমীকরণ থেকে মোলের হিসাব সংক্রান্ত যে তথ্যসমূহ লেখা হয় তা ঐ বিক্রিয়ার স্টয়কিওমিতি (Stoichiometry).

১৪। রাসায়নিক বিক্রিয়া কাকে বলে?

যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক মৌল বা যৌগ রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন এক বা একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয় তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে।

১৫। লিমিটিং বিক্রিয়ক কী?।

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে শেষ হয়ে যায় সেই বিক্রিয়ককে লিমিটিং বিক্রিয়ক বলে।

১৬। অ্যানালার কী?

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত যে বিক্রিয়ক সবচেয়ে বেশি (99%) বিশুদ্ধ তাকে অ্যানালার বলে।

১৮। কেলাস পানি কাকে বলে?

আর্দ্র বা সোদক কেলাসের প্রতি অণুতে যুক্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক পানির অণুকে কেলাস পানি বলে।

১৯। অ্যানালার গ্রেডের পদার্থ কী?

সবচেয়ে বেশি (99%) বিশুদ্ধ রাসায়নিক পদার্থকে অ্যানালার গ্রেড পদার্থ বলে।

২০। স্ফটিক কী?

কঠিন পদার্থের অণুগুলো সুনির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক কাঠামো লাভ করে। দানাদার কঠিন পদার্থের অণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সজ্জিত হয়ে নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক জ্যামিতিক আকার লাভ করে; এরূপ গঠনকে স্ফটিক বলে।

২১। অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা কি?

কোন পদার্থের এক মোলে যতগুলো পরমাণু, অণু,বা আয়ন থাকে সেই পরিমাণকে এভোগেড্রো সংখ্যা বলা হয়। এর মান 6.023 × 10²³.

২২। প্রমান অবস্থা কী?

0° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডল চাপকে একত্রে প্রমাণ অবস্থা বলা হয়।

২৩। দ্রাবক কী?

যে সকল পদার্থ অন্য পদার্থকে নিজের মধ্যে দ্রবীভূত করতে পারে তাকে দ্রাবক বলে।

২৪। দ্রবণ কী?

দ্রব্য এবং দ্রাবকের মিশ্রণকে দ্রবণ বলে।

২৫। প্রমাণ দ্রবণ কী?

যে দ্রবণের ঘনমাত্রা পূর্বে থেকে জানা থাকে, তাকে প্রমাণ দ্রবণ বলা হয়।

আরও পড়ুন
abc

কোন ফলে কোন এসিড থাকে? ১০০টি ফলের নাম ও রাসায়নিক সংকেতসহ তালিকা

প্রকৃতির এক অনন্য দান হলো ফল, যা কেবল স্বাদে অতুলনীয় নয় বরং পুষ্টির এক বিশাল ভাণ্ডার। আমাদের দৈনন্দিন সুষম খাদ্যের তালিকায় ফলের উপস্থিতি অপরিহার্য। ফলে বিদ্যমান ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের পাশাপাশি আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্রাকৃতিক জৈব অ্যাসিড (Organic Acids)। মূলত এই অ্যাসিডগুলোর ভিন্নতার কারণেই কোনো ফল টক, কোনোটি মিষ্টি বা কোনোটি কষযুক্ত স্বাদের হয়ে থাকে। ফলের এই অ্যাসিডগুলো কেবল স্বাদ ও সুগন্ধই নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং এগুলো আমাদের পরিপাকতন্ত্র উন্নত করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে বাংলা বর্ণমালা অনুযায়ী ১০০টি ফলের তালিকা এবং সেগুলোতে বিদ্যমান অ্যাসিডের রাসায়নিক সংকেত উপস্থাপন করা হলো।

ফলের এসিড ও রাসায়নিক সংকেতের তালিকা

অ - আ (স্বরবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
০১অলিভ (জলপাই)ওলিক এসিডC18H34O2
০২অ্যাভোকাডোওলিক এসিডC18H34O2
০৩আঙ্গুর (সবুজ)টারটারিক এসিডC4H6O6
০৪আঙ্গুর (কালো)টারটারিক ও ম্যালিক এসিডC4H6O6 / C4H6O5
০৫আতাসাইট্রিক এসিডC6H8O7
০৬আনারসসাইট্রিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O7 / C4H6O5
০৭আনার (ডালিম)সাইট্রিক এসিডC6H8O7
০৮আম (পাকা)ম্যালিক ও টারটারিক এসিডC4H6O5 / C4H6O6
০৯আম (কাঁচা)সাকসিনিক ও সাইট্রিক এসিডC4H6O4 / C6H8O7
১০আমলকিঅ্যাসকরবিক এসিড (Vit C)C6H8O6
১১আমড়াঅক্সালিক ও সাইট্রিক এসিডC2H2O4 / C6H8O7
১২আপেলম্যালিক এসিডC4H6O5
১৩আপেল কুলম্যালিক এসিডC4H6O5
১৪আপেল মাল্টাসাইট্রিক এসিডC6H8O7
১৫আঁশফল (লংগান)সাইট্রিক ও গ্লুকোনিক এসিডC6H8O7
১৬আলুবোখারাকুইনিক ও ম্যালিক এসিডC7H12O6
১৭ারু (Peach)ম্যালিক ও সাইট্রিক এসিডC4H6O5
১৮আমরুলঅক্সালিক এসিডC2H2O4
১৯আখরোটএলাজিক ও গ্যালিক এসিডC14H6O8
২০আলফালফাম্যালিক এসিডC4H6O5
২১আপ্রিকটম্যালিক ও সাইট্রিক এসিডC4H6O5

ই - উ - এ (স্বরবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
২২ইক্ষু (আঁখ)একোনাইটিক এসিডC6H6O6
২৩ইসবগুলমিউসিলেজ ও ম্যালিক এসিড-
২৪ইমলি (তেঁতুল)টারটারিক এসিডC4H6O6
২৫উচ্ছেএসকরবিক এসিডC6H8O6
২৬এপ্রিকটম্যালিক এসিডC4H6O5
২৭এলডারবেরিসাইট্রিক এসিডC6H8O7

ক - খ (ব্যঞ্জনবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
২৮কলাম্যালিক ও অক্সালিক এসিডC4H6O5 / C2H2O4
২৯কাঁঠালসাইট্রিক এসিড (স্বল্প)C6H8O7
৩০কামরাঙাঅক্সালিক এসিডC2H2O4
৩১কমলাসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৩২করমচাসাইট্রিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O7
৩৩কদবেলসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৩৪কুল (বরই)জিসিফাস ও ম্যালিক এসিডC4H6O5
৩৫কালোজামম্যালিক ও সাইট্রিক এসিডC4H6O5
৩৬কিসমিসটারটারিক এসিডC4H6O6
৩৭কিউই (Kiwi)সাইট্রিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O7
৩৮কুমড়াম্যালিক এসিডC4H6O5
৩৯ক্র্যানবেরিবেনজোয়িক এসিডC7H6O2
৪০কাউফলসাইট্রিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O7
৪১কাজুবাদামঅ্যানাকার্ডিক এসিডC22H32O3
৪২খেজুরট্যানিক ও এসকরবিক এসিডC76H52O46
৪৩খরমুজফোলিক ও ম্যালিক এসিডC19H19N7O6
৪৪খিরাক্যাফেইক ও সাইট্রিক এসিডC9H8O4

গ - ঘ - চ - ছ (ব্যঞ্জনবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
৪৫গাবট্যানিক এসিডC76H52O46
৪৬গাজর (ফল হিসেবে)ম্যালিক এসিডC4H6O5
৪৭গোলপাতা ফলপামিটিক এসিডC16H32O2
৪৮গ্রেপফ্রুটসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৪৯গুজবেরিসাইট্রিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O7
৫০ঘৃতকুমারীস্যালিসাইলিক এসিডC7H6O3
৫১চেরিম্যালিক এসিডC4H6O5
৫২চালতাট্যানিক ও ম্যালিক এসিডC76H52O46
৫৩চীনাবাদামঅলিক এসিডC18H34O2

জ - ঝ - ট - ঠ - ড (ব্যঞ্জনবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
৫৪জামরুলসাইট্রিক এসিড (স্বল্প)C6H8O7
৫৫জলপাইওলিক ও লিনোলিক এসিডC18H34O2
৫৬জাম্বুরাসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৫৭জয়ফলমাইরিস্টিক এসিডC14H28O2
৫৮জুকিনিম্যালিক এসিডC4H6O5
৫৯টমেটোঅক্সালিক ও সাইট্রিক এসিডC2H2O4
৬০টক বড়ইম্যালিক এসিডC4H6O5
৬১ট্যাঁরা ফলসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৬২ডালিমপিউনিকিক এসিড ও সাইট্রিকC18H30O2
৬৩ডুমুরসাইট্রিক ও এসিটিক এসিডC6H8O7
৬৪ড্রাগন ফলঅ্যাসকরবিক এসিডC6H8O6
৬৫ডুরিয়ানসাইট্রিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O7

ত - থ - ন - প - ফ (ব্যঞ্জনবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
৬৬তরমুজসিট্রুলিন ও ম্যালিক এসিডC6H13N3O3
৬৭তেঁতুলটারটারিক এসিডC4H6O6
৬৮তাল (পাকা)পামিটিক ও ওলিক এসিডC16H32O2
৬৯তুঁত ফলরেসভেরাট্রল ও ম্যালিকC14H12O3
৭০নারিকেললরিক এসিডC12H24O2
৭১নাশপাতিম্যালিক ও সাইট্রিক এসিডC4H6O5
৭২নেকটারিনম্যালিক এসিডC4H6O5
৭৩পেঁপেপেপেইন ও সাইট্রিক এসিডC6H8O7
৭৪পেয়ারাঅ্যাসকরবিক ও সাইট্রিকC6H8O6
৭৫পাম ফলপামিটিক এসিডC16H32O2
৭৬প্যাশন ফ্রুটসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৭৭পার্সিমনম্যালিক ও বেটুলিনিক এসিডC4H6O5
৭৮পিচ ফলম্যালিক ও সাইট্রিক এসিডC4H6O5
৭৯পপকর্ন (ভুট্টা)ফেরুলিক এসিডC10H10O4
৮০ফুটি (Melon)ফোলিক এসিডC19H19N7O6

ব - ভ - ম - ল (ব্যঞ্জনবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
৮১বেলট্যানিক ও ম্যালিক এসিডC76H52O46
৮২বিলিম্বিঅক্সালিক এসিডC2H2O4
৮৩বৈঁচিম্যালিক এসিডC4H6O5
৮৪ব্ল্যাকবেরিআইসোসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৮৫ব্লুবেরিবেনজোয়িক ও ক্লোরোজেনিক এসিডC7H6O2
৮৬বাদামফলিক এসিডC19H19N7O6
৮৭ভেজিটেবল ম্যারোম্যালিক এসিডC4H6O5
৮৮মাল্টাসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৮৯মিষ্টি কুমড়াম্যালিক এসিডC4H6O5
৯০ম্যাংগোস্টিনসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৯১লেবুসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৯২লিচুম্যালিক ও টারটারিক এসিডC4H6O5
৯৩লটকনঅ্যাসকরবিক ও ম্যালিক এসিডC6H8O6

শ - স - হ (ব্যঞ্জনবর্ণ)

ক্রমিক ফলের নাম উপস্থিত এসিড রাসায়নিক সংকেত
৯৪শসাক্যাফেইক ও সাইট্রিক এসিডC9H8O4
৯৫শরিফাক্যাপ্রিক এসিড (স্বল্প)C10H20O2
৯৬সফেদাট্যানিক এসিডC76H52O46
৯৭স্ট্রবেরিসাইট্রিক ও এলাজিক এসিডC6H8O7
৯৮সাতকরাসাইট্রিক এসিডC6H8O7
৯৯সুপারিগ্যালিক ও ট্যানিক এসিডC7H6O5
১০০হরিতকীচেবুলিক এসিডC14H12O11

পরিশেষে বলা যায়, ফলের এই বৈচিত্র্যময় তালিকা থেকে এটি স্পষ্ট যে প্রতিটি ফলেই কোনো না কোনো শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যাসিড বিদ্যমান। সাইট্রিক, ম্যালিক কিংবা টারটারিক অ্যাসিডের মতো উপাদানগুলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, প্রতিটি ফলের গুণাগুণ তার পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলের নাম এবং এর রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আমাদের পুষ্টি সচেতনতাকে এক ধাপ এগিয়ে দেয়। তাই সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের জন্য আমাদের উচিত ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ফলকে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ উপকার গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন
abc

যোজনী (Valency) বের করার সহজ উপায়

যোজনী (Valency) বের করার সহজ উপায় ও বিস্তারিত গাইড

একজন রসায়ন শিক্ষক হিসেবে আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কীভাবে খুব সহজেই যেকোনো মৌলের যোজনী নির্ণয় করা যায়।

রসায়নশাস্ত্রে, যোজনী বা Valency একটি মৌলিক ধারণা। কোনো মৌলের যোজনী জানা থাকলে আমরা সহজেই সেই মৌলের রাসায়নিক ধর্ম এবং যৌগ গঠনের ক্ষমতা বুঝতে পারি। এটি রাসায়নিক সংকেত লেখার চাবিকাঠি।

যোজনী বা Valency কাকে বলে?

সহজ কথায়, একটি পরমাণু স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার সময় যতগুলো ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ বা শেয়ার করে, সেই সংখ্যাটিই হলো তার যোজনী। অর্থাৎ, কোনো মৌলের যোজনী হলো তার অন্য মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মৌলের যোজনী এবং জারণ সংখ্যা (Oxidation Number) এক নয়, তবে এদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যোজনী সর্বদা একটি পূর্ণসংখ্যা হয় এবং এর কোনো ধনাত্মক (+) বা ঋণাত্মক (-) চিহ্ন হয় না।

যোজনী নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতিসমূহ

যোজনী বের করার জন্য আমরা ৩টি প্রধান পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি:

১. ইলেকট্রন বিন্যাসের মাধ্যমে যোজনী নির্ণয় (সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি)

এটি আধুনিক এবং সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়। কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস (Electron Configuration) করার পর তার সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা থেকে যোজনী বের করা যায়।

  • ধাতুর ক্ষেত্রে (১-৪ টি ইলেকট্রন): যদি শেষ কক্ষপথে ১ থেকে ৪টি ইলেকট্রন থাকে, তবে সেই সংখ্যাটিই তার যোজনী।
    উদাহরণ: সোডিয়াম (Na) এর শেষ কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন আছে, তাই এর যোজনী ১।
  • অধাতুর ক্ষেত্রে (৪-এর বেশি ইলেকট্রন): যদি শেষ কক্ষপথে ৪-এর বেশি ইলেকট্রন থাকে, তবে ৮ থেকে সেই সংখ্যা বিয়োগ করলে যোজনী পাওয়া যায়। (সূত্র: ৮ - শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন)।
    উদাহরণ: ক্লোরিন (Cl) এর শেষে ৭টি ইলেকট্রন। যোজনী = ৮ - ৭ = ১।
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাস: শেষ কক্ষপথে ৮টি (হিলিয়ামে ২টি) ইলেকট্রন থাকায় এদের যোজনী ০।

২. হাইড্রোজেন বা ক্লোরিন পরমাণুর সংখ্যা দ্বারা

কোনো মৌল কতটি হাইড্রোজেন (H) বা ক্লোরিন (Cl) পরমাণুর সাথে যুক্ত হচ্ছে, সেই সংখ্যাটিই তার যোজনী।</

  • HCl: এখানে ১টি ক্লোরিন ১টি হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত, তাই Cl এর যোজনী ১।
  • H₂O (পানি): এখানে অক্সিজেন ২টি হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত, তাই O এর যোজনী ২।
  • NH₃ (অ্যামোনিয়া): এখানে নাইট্রোজেন ৩টি হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত, তাই N এর যোজনী ৩।
  • CH₄ (মিথেন): এখানে কার্বন ৪টি হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত, তাই C এর যোজনী ৪।

৩. পর্যায় সারণীর গ্রুপ সংখ্যা থেকে (সহজ চার্ট)

পর্যায় সারণী (Periodic Table)-এর গ্রুপ সংখ্যা মনে রাখলে যোজনী বের করা খুব সহজ হয়ে যায়।

বিভিন্ন গ্রুপের মৌলসমূহের সাধারণ যোজনী চার্ট
গ্রুপ নং মৌলের ধরন শেষ কক্ষপথে ইলেকট্রন সাধারণ যোজনী উদাহরণ
গ্রুপ ১ ক্ষার ধাতু ১ টি Li, Na, K
গ্রুপ ২ মৃৎক্ষার ধাতু ২ টি Mg, Ca
গ্রুপ ১৩ বোরন পরিবার ৩ টি Al, B
গ্রুপ ১৪ কার্বন পরিবার ৪ টি C, Si
গ্রুপ ১৫ নাইট্রোজেন পরিবার ৫ টি ৩, ৫ N, P
গ্রুপ ১৬ অক্সিজেন পরিবার ৬ টি O, S
গ্রুপ ১৭ হ্যালোজেন ৭ টি F, Cl, Br
গ্রুপ ১৮ নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৮ টি Ne, Ar

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পরিবর্তনশীল যোজনী (Variable Valency)

কিছু কিছু মৌল একাধিক যোজনী প্রদর্শন করে। এদেরকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। সাধারণত অবস্থান্তর মৌল (Transition Elements) এই ধর্ম প্রদর্শন করে।

  • আয়রন (Fe): যোজনী ২ (ফেরাস) এবং ৩ (ফেরিক)।
  • কপার (Cu): যোজনী ১ (কিউপ্রাস) এবং ২ (কিউপ্রিক)।
  • সালফার (S): যোজনী ২, ৪ এবং ৬ হতে পারে।

যৌগমূলক বা Radicals-এর যোজনী

যৌগমূলকের যোজনী তাদের আধান বা চার্জের সমান হয়।

  • সালফেট (SO₄²⁻) এর চার্জ -২, তাই যোজনী ২।
  • অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) এর চার্জ +১, তাই যোজনী ১।

আশা করি, এই আলোচনা থেকে আপনি যোজনী বা Valency নির্ণয়ের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন। নিয়মিত ইলেকট্রন বিন্যাস চর্চা করলে এটি আপনার কাছে আরও সহজ হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন
abc

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা প্রবন্ধ রচনা ১০০০ শব্দ

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা

ভূমিকা:

বাঙালি জাতির ইতিহাস হাজার বছরের চড়াই-উৎরাইয়ের ইতিহাস। কিন্তু এই ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত সময়কাল। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশই একমাত্র রাষ্ট্র, যার জন্মের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ভাষার মর্যাদাকে কেন্দ্র করে। ১৯৫২ সালে যে অসাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিক বিবর্তনে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধীনতার বীজ, আর মুক্তিযুদ্ধ ছিল সেই বীজের মহিরুহ বা পূর্ণাঙ্গ রূপ।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি:

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশের মধ্যে (পূর্ব ও পশ্চিম) ধর্ম ছাড়া আর কোনো মিল ছিল না। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই দুই অংশের মধ্যে শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। তাদের প্রথম আঘাত আসে ভাষার ওপর। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা করেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"

বাঙালি ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা এই দম্ভের প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তারা বোঝাতে চায়, জনসংখ্যার গরিষ্ঠ অংশের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করা চলবে না। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫২ সালে জোর করে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে। পুলিশের নির্মম গুলিতে রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। রাজপথ রঞ্জিত হয় বাঙালির বুকের তাজা রক্তে। এই আত্মত্যাগ শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল না, এটি ছিল বাঙালির প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ, যা তাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল—ধর্মের চেয়েও ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধন অনেক বেশি শক্তিশালী।

জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:

বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির মনে যে জাতীয়তাবাদের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করেছিল, তা দ্রুত দাবানলে পরিণত হয়। ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটে। আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ), কৃষক শ্রমিক পার্টি ও অন্যান্য দল মিলে গঠন করে ‘যুক্তফ্রন্ট’। তাদের ২১ দফা ইশতেহারের প্রধান দাবিই ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা। নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে এবং যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এটি ছিল পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যালট পেপারে বাঙালির প্রথম বড় বিজয়। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ষড়যন্ত্র করে এই সরকারকে বেশিদিন টিকতে দেয়নি, কিন্তু এই বিজয় বাঙালির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সামরিক শাসন ও ১৯৬২-এর ছাত্র আন্দোলন:

১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেন। তিনি বাঙালির ওপর নতুন করে শোষণ ও নিপীড়ন শুরু করেন। এর প্রতিবাদে ১৯৬২ সালে ছাত্রসমাজ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে, যা ‘৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন’ নামে পরিচিত। আপাতদৃষ্টিতে এটি শিক্ষাসংক্রান্ত আন্দোলন মনে হলেও, এর মূলে ছিল স্বৈরাচারী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, ছাত্রসমাজই বাঙালির যেকোনো সংকটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন: 

ভাষা আন্দোলন যদি স্বাধীনতার বীজ হয়, তবে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি ছিল সেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, আলাদা মুদ্রা বা রিজার্ভ ব্যবস্থা এবং নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা একে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ততদিনে বাংলার মানুষ ছয় দফাকে তাদের ‘বাঁচার দাবি’ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই ছয় দফাকে কেন্দ্র করেই স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতার আন্দোলনের দিকে মোড় নিতে শুরু করে।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন নস্যাৎ করতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে। উদ্দেশ্য ছিল শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে ফাঁসি দেওয়া। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়। ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। ১৯৬৯ সালে এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ‘জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিবকে আনবো’—এই স্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়। পুলিশের গুলিতে শহিদ হন আসাদ, মতিউর, ড. জোহাসহ অনেকে। তীব্র আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে এবং আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন।

১৯৭০-এর নির্বাচন:

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের চূড়ান্ত মোড়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। এই ফলাফল ছিল ছয় দফার প্রতি জনগণের রায় এবং পাকিস্তানের শাসনকাঠামো থেকে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে। তারা আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করে এবং গোপনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

১৯৭১-এর অসহযোগ আন্দোলন ও ৭ই মার্চের ভাষণ:

ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি দেখে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। পুরো পূর্ব পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তিনি বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা। তিনি জনগণকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। এই ভাষণ বাঙালি জাতিকে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে।

গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ:

২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা ঢাকায় নির্বিচারে গণহত্যা চালায়, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ।

মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, যা যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব দেয়। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, জনতা—সবাই মিলে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধ। এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ শহিদ হন এবং ২ লক্ষ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারান। ভারতসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জনমত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়। অবশেষে, ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বিশ্বের মানচিত্রে উদিত হয় লাল-সবুজের পতাকাবাহী স্বাধীন বাংলাদেশ।

উপসংহার:

১৯৫২ থেকে ১৯৭১—এই ১৯ বছরের পথচলা ছিল এক রক্তঝরা অধ্যায়। বায়ান্নতে যে ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া শুরু হয়েছিল, একাত্তরে তা রক্তসাগরে পরিণত হয়ে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনে। ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল মাথা নত না করতে, আর মুক্তিযুদ্ধ শিখিয়েছিল কীভাবে সেই উন্নত শির চিরস্থায়ী করতে হয়। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার এক দীর্ঘ সংগ্রামের সোনালি ফসল। আজকের প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাসের শিক্ষা হলো—অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকা এবং দেশমাতৃকাকে সর্বোচ্চ ভালোবাসা। ৫২-এর চেতনা আর ৭১-এর শক্তিই হোক আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

আরও পড়ুন
abc

পারমাণবিক ভর বা আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর - নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক)

পারমাণবিক ভর ও আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: সংজ্ঞা, পার্থক্য ও নির্ণয়ের পূর্ণাঙ্গ গাইড

রসায়ন বিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হলো পরমাণুর ভরের ধারণা। পারমাণবিক ভর (Atomic Mass) এবং আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর (Relative Atomic Mass)-এর ধারণা, একক এবং গাণিতিক হিসাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।


আপনি যদি রসায়নের শিক্ষার্থী হন, তবে পারমাণবিক ভর এবং আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের ধারণা পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই গাইডে আমরা এই দুটি বিষয়, এদের একক, এবং গাণিতিক হিসাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পারমাণবিক ভর (Atomic Mass) কী?

সহজ কথায়, কোনো মৌলের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকেই তার পারমাণবিক ভর বলা হয়। পরমাণু অতি ক্ষুদ্র কণা, তাই এর ভরও অত্যন্ত কম। একটি পরমাণুর ভর মূলত তার নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন-এর মোট ভরের ওপর নির্ভর করে। ইলেকট্রনের ভর অতি নগণ্য হওয়ায় ভরের হিসেবে একে সাধারণত উপেক্ষা করা হয়।

পারমাণবিক ভরের একক (amu)

অতীতে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনকে ভরের মানক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমানে কার্বন-১২ (Carbon-12) আইসোটোপকে আন্তর্জাতিক মানক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পারমাণবিক ভর প্রকাশের একক হলো amu (atomic mass unit) বা ডালটন (Da)

  • ১ amu এর সংজ্ঞা: কার্বন-১২ (\( ^{12}\text{C} \)) আইসোটোপের একটি পরমাণুর ভরের ঠিক \( \frac{1}{12} \) অংশকে ১ amu বা ১ ডালটন বলা হয়।
  • মান: \( 1 \text{ amu} \approx 1.6605 \times 10^{-27} \text{ kg} \)
উদাহরণ: একটি কার্বন-১২ পরমাণুর ভর ঠিক ১২ amu এবং হাইড্রোজেনের ভর প্রায় ১.০০৮ amu।

আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর (Relative Atomic Mass)

পরমাণুর প্রকৃত ভর (যেমন: অক্সিজেনের \( 2.656 \times 10^{-26} \text{ kg} \)) মনে রাখা বা ব্যবহার করা বেশ জটিল। এই জটিলতা দূর করতেই বিজ্ঞানীরা আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর পদ্ধতি চালু করেন।

আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের সংজ্ঞা

কোনো মৌলের একটি পরমাণুর ভর, কার্বন-১২ আইসোটোপের একটি পরমাণুর ভরের \( \frac{1}{12} \) অংশের তুলনায় যত গুণ ভারী, সেই সংখ্যাটিকে ওই মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে। যেহেতু এটি দুটি ভরের অনুপাত, তাই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের কোনো একক নেই

নির্ণয়ের সূত্র

আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বের করার গাণিতিক সূত্রটি হলো:

\[ \text{Relative atomic mass} = \frac{\text{মৌলের একটি পরমাণুর ভর}}{\frac{1}{12} \times \text{একটি } ^{12}\text{C} \text{ পরমাণুর ভর}} \]

গাণিতিক উদাহরণ:

ধরি, একটি অক্সিজেন পরমাণুর ভর \( 2.656 \times 10^{-26} \text{ kg} \)।
আমরা জানি, \( \frac{1}{12} \times \text{একটি } ^{12}\text{C} \text{ পরমাণুর ভর} = 1.6605 \times 10^{-27} \text{ kg} \)।

অতএব, অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর:

\[ \frac{2.656 \times 10^{-26}}{1.6605 \times 10^{-27}} \approx 16 \]

অর্থাৎ, অক্সিজেন পরমাণু কার্বন-১২ এর এক অংশের চেয়ে ১৬ গুণ ভারী।

কার্বন-১২ (C-12) কেন মানক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?

রসায়নবিদরা পারমাণবিক ভর পরিমাপের জন্য কার্বন-১২ কে আদর্শ বা মানক হিসেবে বেছে নিয়েছেন কারণ:

  1. প্রাপ্যতা: কার্বন প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
  2. স্থিতিশীলতা: এটি রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত স্থিতিশীল।
  3. আইসোটোপ বিভাজন: এর আইসোটোপগুলো আলাদা করা তুলনামূলক সহজ।

গড় পারমাণবিক ভর (Average Atomic Mass) ও আইসোটোপ

পর্যায় সারণিতে আমরা অনেক মৌলের ভর ভগ্নাংশে দেখি (যেমন: ক্লোরিন ৩৫.৫)। এর কারণ হলো আইসোটোপ। প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভরের পরমাণু বা আইসোটোপ থাকে। গড় পারমাণবিক ভর হলো প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আইসোটোপগুলোর প্রাচুর্যতার (Abundance) গড় মান।

ক্লোরিনের উদাহরণ (Exam Special)

প্রকৃতিতে ক্লোরিনের দুটি প্রধান আইসোটোপ পাওয়া যায়:

  • ক্লোরিন-৩৫ (\( ^{35}\text{Cl} \)): ভর প্রায় ৩৪.৯৬৯ amu, প্রাচুর্যতা ৭৫.৭৭%।
  • ক্লোরিন-৩৭ (\( ^{37}\text{Cl} \)): ভর প্রায় ৩৬.৯৬৬ amu, প্রাচুর্যতা ২৪.২৩%।

গণনা:

\[ \text{গড় ভর} = (34.969 \times 0.7577) + (36.966 \times 0.2423) \] \[ \approx 26.495 + 8.956 \] \[ \approx 35.453 \text{ amu} \]

এ কারণেই আমরা ক্লোরিনের পারমাণবিক ভর ৩৫.৫ ব্যবহার করি।

তুলনা: পারমাণবিক ভর vs আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর vs ভর সংখ্যা

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিচে তিনটি ধারণার মূল পার্থক্য ছক আকারে দেওয়া হলো:

বৈশিষ্ট্য পারমাণবিক ভর (Atomic Mass) আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর (Relative Atomic Mass) ভর সংখ্যা (Mass Number)
সংজ্ঞা একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর। কার্বন-১২ এর সাপেক্ষে ভরের তুলনামূলক অনুপাত। নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল।
একক amu বা Da এককবিহীন রাশি এককবিহীন পূর্ণ সংখ্যা
প্রকৃতি ভগ্নাংশ হতে পারে। ভগ্নাংশ হতে পারে (গড় ভরের কারণে)। সর্বদা পূর্ণ সংখ্যা হবে।
ব্যবহার ভৌত রসায়নের সূক্ষ্ম গবেষণায়। সাধারণ রাসায়নিক গণনা ও স্টয়কিওমেট্রিতে। আইসোটোপ চিহ্নিত করতে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের কোনো একক নেই কেন?
উত্তর: কারণ এটি দুটি সমজাতীয় রাশির (উভয়ই ভর) অনুপাত। তাই এর কোনো একক থাকে না।

২. ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক ভরের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ভর সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা (সর্বদা পূর্ণসংখ্যা), আর পারমাণবিক ভর হলো পরমাণুর প্রকৃত ওজন যা প্রায়শই ভগ্নাংশ হয়।

৩. ১ amu এর মান কত গ্রামে?
উত্তর: ১ amu ≈ \( 1.66 \times 10^{-24} \) গ্রাম।

উপসংহার

পারমাণবিক ভর এবং আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর রসায়নের গাণিতিক সমস্যার সমাধানের মূল চাবিকাঠি। আশা করি, আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে কার্বন-১২ স্কেল, আইসোটোপের প্রভাব এবং ভরের ভিন্নতা সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন
abc

পর্যায় সারণির ১ থেকে ১১৮ মৌলের পূর্ণ ইলেকট্রন বিন্যাস

পর্যায় সারণির ১ থেকে ১১৮ মৌলের পূর্ণ ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন বিজ্ঞানে মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস একটি মৌলিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম, যোজনী এবং পর্যায় সারণিতে তার অবস্থান সঠিকভাবে বোঝার জন্য ইলেকট্রন বিন্যাস জানা অপরিহার্য। পাঠ্যপুস্তকে বা সাধারণ তালিকায় অনেক সময় ১১৮টি মৌলের পূর্ণ ইলেকট্রন বিন্যাস একসঙ্গে খুঁজে পাওয়া কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যার মৌলগুলোর (যেমন ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারি) ক্ষেত্রে এই বিন্যাস বেশ জটিল।

এই আর্টিকেলে আধুনিক পর্যায় সারণির ১ থেকে ১১৮টি মৌলের পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রন বিন্যাসের একটি সুশৃঙ্খল, নির্ভুল এবং ডিজিটাল তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বা ব্যবহারকারী খুব সহজেই যেকোনো মৌলের নাম, প্রতীক এবং তার বিস্তারিত ইলেকট্রন বিন্যাস এক নজরে দেখতে পারবেন। এটি শিক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, আধুনিক এবং প্রযুক্তি-বান্ধব করে তুলবে।

Z মৌলের নাম প্রতীক পূর্ণ ইলেকট্রন বিন্যাস
আরও পড়ুন
abc

পর্যায় সারণির ১১৮টি মৌলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা

রসায়নের মূল ভিত্তি হলো মৌলিক পদার্থসমূহ। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ১১ ৮টি মৌল তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ওপর ভিত্তি করে একটি সুশৃঙ্খল ছকে বিন্যস্ত থাকে, যা আমরা পর্যায় সারণী নামে জানি। নিচে উপস্থাপিত সারণীটিতে ১ থেকে ১১৮ পর্যন্ত সকল মৌলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই টেবিলে প্রতিটি মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা, বাংলা ও ইংরেজি নাম, প্রতীক, শ্রেণিবিভাগ (ধাতু, অধাতু, উপধাতু বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস) এবং পারমাণবিক ভর উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে, গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সুবিধার্থে প্রকৃত ভরের পাশাপাশি পূর্ণসংখ্যায় 'হিসাবের ভর' কলামটি যুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

১১৮টি মৌলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা

ক্রম বাংলা নাম ইংরেজি নাম শ্রেণিবিভাগ প্রতীক প্রকৃত ভর হিসাবের ভর
হাইড্রোজেনHydrogenঅধাতুH১.০০৮
হিলিয়ামHeliumনিষ্ক্রিয় গ্যাসHe৪.০০৩
লিথিয়ামLithiumধাতুLi৬.৯৪
বেরিলিয়ামBerylliumধাতুBe৯.০১
বোরনBoronউপধাতুB১০.৮১১১
কার্বনCarbonঅধাতুC১২.০১১২
নাইট্রোজেনNitrogenঅধাতুN১৪.০১১৪
অক্সিজেনOxygenঅধাতুO১৫.৯৯১৬
ফ্লোরিনFluorineঅধাতুF১৮.৯৯৮১৯
১০নিয়নNeonনিষ্ক্রিয় গ্যাসNe২০.১৮২০
১১সোডিয়ামSodiumধাতুNa২২.৯৯২৩
১২ম্যাগনেসিয়ামMagnesiumধাতুMg২৪.৩১২৪
১৩অ্যালুমিনিয়ামAluminiumধাতুAl২৬.৯৮২৭
১৪সিলিকনSiliconউপধাতুSi২৮.০৯২৮
১৫ফসফরাসPhosphorusঅধাতুP৩০.৯৭৩১
১৬সালফারSulfurঅধাতুS৩২.০৬৩২
১৭ক্লোরিনChlorineঅধাতুCl৩৫.৪৫৩৫.৫
১৮আর্গনArgonনিষ্ক্রিয় গ্যাসAr৩৯.৯৫৪০
১৯পটাশিয়ামPotassiumধাতুK৩৯.১০৩৯
২০ক্যালসিয়ামCalciumধাতুCa৪০.০৮৪০
২১স্ক্যানডিয়ামScandiumধাতুSc৪৪.৯৬৪৫
২২টাইটানিয়ামTitaniumধাতুTi৪৭.৮৮৪৮
২৩ভ্যানাডিয়ামVanadiumধাতুV৫০.৯৪৫১
২৪ক্রোমিয়ামChromiumধাতুCr৫১.৯৯৫২
২৫ম্যাঙ্গানিজManganeseধাতুMn৫৪.৯৪৫৫
২৬আয়রনIronধাতুFe৫৫.৮৫৫৬
২৭কোবাল্টCobaltধাতুCo৫৮.৯৩৫৯
২৮নিকেলNickelধাতুNi৫৮.৬৯৫৯
২৯কপারCopperধাতুCu৬৩.৫৫৬৩.৫
৩০জিংকZincধাতুZn৬৫.৩৮৬৫
৩১গ্যালিয়ামGalliumধাতুGa৬৯.৭২৭০
৩২জার্মেনিয়ামGermaniumউপধাতুGe৭২.৬৪৭৩
৩৩আর্সেনিকArsenicউপধাতুAs৭৪.৯২৭৫
৩৪সেলেনিয়ামSeleniumঅধাতুSe৭৮.৯৬৭৯
৩৫ব্রোমিনBromineঅধাতুBr৭৯.৯০৮০
৩৬ক্রিপ্টনKryptonনিষ্ক্রিয় গ্যাসKr৮৩.৮০৮৪
৩৭রুবিডিয়ামRubidiumধাতুRb৮৫.৪৭৮৫.৫
৩৮স্ট্রোনসিয়ামStrontiumধাতুSr৮৭.৬২৮৮
৩৯ইট্রিয়ামYttriumধাতুY৮৮.৯১৮৯
৪০জিরকোনিয়ামZirconiumধাতুZr৯১.২২৯১
৪১নিওবিয়ামNiobiumধাতুNb৯২.৯১৯৩
৪২মলিবডেনামMolybdenumধাতুMo৯৫.৯৬৯৬
৪৩টেকনিসিয়ামTechnetiumধাতুTc৯৭.৯১৯৮
৪৪রুথেনিয়ামRutheniumধাতুRu১০১.১১০১
৪৫রোডিয়ামRhodiumধাতুRh১০২.৯১১০৩
৪৬প্যালাডিয়ামPalladiumধাতুPd১০৬.৪২১০৬
৪৭সিলভারSilverধাতুAg১০৭.৯১০৮
৪৮ক্যাডমিয়ামCadmiumধাতুCd১১২.৪১১১২
৪৯ইন্ডিয়ামIndiumধাতুIn১১৪.৮২১১৫
৫০টিনTinধাতুSn১১৮.৭১১১৯
৫১অ্যান্টিমনিAntimonyধাতুSb১২১.৭৬১২২
৫২টেলুরিয়ামTelluriumউপধাতুTe১২৭.৬১১২৮
৫৩আয়োডিনIodineঅধাতুI১২৬.৯১১২৭
৫৪জেননXenonনিষ্ক্রিয় গ্যাসXe১৯১.৩০১৩১
৫৫সিজিয়ামCaesiumধাতুCs১৩২.৯১১৩৩
৫৬বেরিয়ামBariumধাতুBa১৩৭.৩৪১৩৭
৫৭ল্যান্থানামLanthanumধাতুLa১৩৮.৯২১৩৯
৫৮সিরিয়ামCeriumধাতুCe১৪০.১২১৪০
৫৯প্রাসিওডাইমিয়ামPraseodymiumধাতুPr১৪০.৯১১৪১
৬০নিওডাইমিয়ামNeodymiumধাতুNd১৪৪.২৪১৪৪
৬১প্রোমিথিয়ামPromethiumধাতুPm১৪৪.৯৯১৪৫
৬২স্যামেরিয়ামSamariumধাতুSm১৫০.৪১৫০
৬৩ইউরোপিয়ামEuropiumধাতুEu১৫১.৯৬১৫২
৬৪গ্যাডোলিনিয়ামGadoliniumধাতুGd১৫৭.৩১৫৭
৬৫টারবিয়ামTerbiumধাতুTb১৫৮.৯৩১৫৯
৬৬ডিসপ্রোসিয়ামDysprosiumধাতুDy১৬২.৫০১৬৩
৬৭হলমিয়ামHolmiumধাতুHo১৬৪.৯৪১৬৫
৬৮এরবিয়ামErbiumধাতুEr১৬৭.২৬১৬৭
৬৯থুলিয়ামThuliumধাতুTm১৬৮.৯৪১৬৯
৭০ইটারবিয়ামYtterbiumধাতুYb১৭৩.০৪১৭৩
৭১লুটেসিয়ামLutetiumধাতুLu১৭৪.৯৭১৭৫
৭২হাফনিয়ামHafniumধাতুHf১৭৮.৫১৭৮.৫
৭৩ট্যানটালামTantalumধাতুTa১৮০.৯৪১৮১
৭৪টাংস্টেনTungstenধাতুW১৮৩.৯১৮৪
৭৫রেনিয়ামRheniumধাতুRe১৮৬.২০১৮৬
৭৬অসমিয়ামOsmiumধাতুOs১৯০.২৩১৯০
৭৭ইরিডিয়ামIridiumধাতুIr১৯২.২২১৯২
৭৮প্লাটিনামPlatinumধাতুPt১৯৫.০৮১৯৫
৭৯গোল্ডGoldধাতুAu১৯৬.৯৭১৯৭
৮০মার্কারিMercuryতরল ধাতুHg২০০.৬২০১
৮১থ্যালিয়ামThalliumধাতুTl২০৪.৪২০৪
৮২লেডLeadধাতুPb২০৭.২২০৭
৮৩বিসমাথBismuthধাতুBi২০৮.৯৮২০৯
৮৪পোলোনিয়ামPoloniumধাতুPo২০৮.৯৯২০৯
৮৫অ্যাস্টাটিনAstatineঅধাতুAt২০৯.৯৯২১০
৮৬রেডনRadonনিষ্ক্রিয় গ্যাসRn২২২.০২২২২
৮৭ফ্রান্সিয়ামFranciumধাতুFr২২৩.০২২২৩
৮৮রেডিয়ামRadiumধাতুRa২২৬.০৩২২৬
৮৯অ্যাকটিনিয়ামActiniumধাতুAc২২৭.০৩২২৭
৯০থোরিয়ামThoriumধাতুTh২৩২.০৪২৩২
৯১প্রোটেক্টিনিয়ামProtactiniumধাতুPa২৩১.০৪২৩১
৯২ইউরেনিয়ামUraniumধাতুU২৩৮.০৩২৩৮
৯৩নেপচুনিয়ামNeptuniumধাতুNp২৩৭.০৫২৩৭
৯৪প্লুটোনিয়ামPlutoniumধাতুPu২৪৪.০৬২৪৪
৯৫আমেরিসিয়ামAmericiumধাতুAm২৪৩.০৬২৪৩
৯৬কুরিয়ামCuriumধাতুCm২৪৭.০৭২৪৭
৯৭বার্কেলিয়ামBerkeliumধাতুBk২৪৭.০৭২৪৭
৯৮ক্যালিফোর্নিয়ামCaliforniumধাতুCf২৫১.০৭২৫১
৯৯আইনস্টাইনিয়ামEinsteiniumধাতুEs২৫২.০৮২৫২
১০০ফার্মিয়ামFermiumধাতুFm২৫৭.১২৫৭
১০১মেন্ডেলেভিয়ামMendeleviumধাতুMd২৫৮.১২৫৮
১০২নোবেলিয়ামNobeliumধাতুNo২৫৯.১০২৫৯
১০৩লরেনসিয়ামLawrenciumধাতুLr২৬২.১১২৬২
১০৪রাদারফোর্ডিয়ামRutherfordiumধাতুRf২৬১.১১২৬১
১০৫ডুবনিয়ামDubniumধাতুDb২৬২.১১২৬২
১০৬সিবোর্গিয়ামSeaborgiumধাতুSg২৬৬.১২২৬৩
১০৭বোরিয়ামBohriumধাতুBh২৬৪.১২২৬৪
১০৮হাসিয়ামHassiumধাতুHs২৬৯২৬৯
১০৯মিটনেরিয়ামMeitneriumধাতুMt২৬৮.১৪২৬৮
১১০ডার্মস্টাডিয়ামDarmstadtiumধাতুDs২৭১২৮১
১১১রন্টজেনিয়ামRoentgeniumধাতুRg২৭২২৮৩
১১২কোপারনিসিয়ামCoperniciumধাতুCn২৮৫২৮৫
১১৩নিহোনিয়ামNihoniumধাতুNh২৮৪২৮৪
১১৪ফ্লেরোভিয়ামFleroviumধাতুFl২৮৯২৮৯
১১৫মস্কোভিয়ামMoscoviumধাতুMc২৮৮২৮৮
১১৬লিভারমোরিয়ামLivermoriumধাতুLv২৯২২৯২
১১৭টেনেসাইনTennessineঅধাতুTs২৯৪২৯৪
১১৮ওগানেসনOganessonনিষ্ক্রিয় গ্যাসOg২৯৪২৯৪


পর্যায় সারণিতে ধাতু এবং অধাতুগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম । এই ধর্মগুলোর ওপর ভিত্তি করেই ১১৮টি মৌলকে একটি সুশৃঙ্খল ছকে আলাদাভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে ।

ধাতু ও অধাতুর প্রধান পার্থক্য

  • শ্রেণিবিভাগ: মৌলগুলোর ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং তারা কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, তার ওপর ভিত্তি করে এদের ধাতু ও অধাতু হিসেবে আলাদা করা হয় ।
  • ভৌত অবস্থা: উৎস অনুসারে, ধাতুগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে; যেমন মার্কারি (পারদ) একটি বিশেষ মৌল যাকে তরল ধাতু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । অন্যদিকে, অধাতুগুলো গ্যাসীয় বা কঠিন বিভিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে ।
  • গাঠনিক গুরুত্ব: পর্যায় সারণিতে ধাতু, অধাতু এবং উপধাতুর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন দেখানো হয়েছে যা রাসায়নিক গণনা এবং বিক্রিয়া বুঝতে অত্যন্ত সহায়ক ।
বৈশিষ্ট্য ধাতু (Metals) অধাতু (Non-metals)
উদাহরণ লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), আয়রন (Fe), গোল্ড (Au)  হাইড্রোজেন (H), কার্বন (C), অক্সিজেন (O), ক্লোরিন (Cl) [৪]
অবস্থান এগুলো পর্যায় সারণির অধিকাংশ স্থান দখল করে আছে  এগুলো নির্দিষ্ট কিছু অবস্থানে বিন্যস্ত 
ব্যতিক্রম মার্কারি (Hg) একটি তরল ধাতু হাইড্রোজেন (H) প্রথম অধাতু মৌল 
আমি আপনার জন্য আর কী করতে পারি? আমি কি এই তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে ধাতু ও অধাতুর একটি তুলনামূলক ইনফোগ্রাফিক ইমেজ তৈরি করে দেব, যা আপনার প্রেজেন্টেশন বা পড়ার জন্য আরও সহায়ক হবে?

নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases)

নিষ্ক্রিয় গ্যাস হলো পর্যায় সারণির এমন এক শ্রেণির মৌল যা তাদের বিশেষ ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ওপর ভিত্তি করে আলাদাভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। আধুনিক পর্যায় সারণির ১১৮টি মৌলের তালিকায় মোট ৭টি নিষ্ক্রিয় গ্যাস পাওয়া যায়।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসের তালিকা ও সংকেত

ক্রমিক নং বাংলা নাম ইংরেজি নাম প্রতীক (Symbol) পারমাণবিক সংখ্যা
হিলিয়াম Helium He
নিয়ন Neon Ne ১০
আর্গন Argon Ar ১৮
ক্রিপ্টন Krypton Kr ৩৬
জেনন Xenon Xe ৫৪
রেডন Radon Rn ৮৬
ওগানেসন Oganesson Og ১১৮

নিষ্ক্রিয় গ্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • শ্রেণিবিভাগ: এগুলো পর্যায় সারণির একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে (গ্রুপ ১৮) অবস্থিত এবং ধাতু, অধাতু বা উপধাতু থেকে আলাদা হিসেবে গণ্য করা হয়।
  • ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম: প্রতিটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নিজস্ব ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করেই এদের এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • পারমাণবিক ভর: এদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট প্রকৃত ভর এবং গাণিতিক হিসাবের জন্য নির্দিষ্ট 'হিসাবের ভর' রয়েছে।
  • অবস্থান: ১১৮টি মৌলের এই সুশৃঙ্খল ছকে এদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রসায়ন অধ্যয়ন ও রাসায়নিক গণনা বুঝতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

পরিশেষে বলা যায়, মৌলের এই তালিকাটি রসায়ন অধ্যয়নের জন্য একটি অপরিহার্য নির্দেশিকা। এখানে যেমন ধাতু, অধাতু ও উপধাতুর সুস্পষ্ট বিভাজন দেখানো হয়েছে, তেমনি প্রতিটি মৌলের সঠিক প্রতীক ও ভর নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এই মৌলগুলোর ব্যবহার অপরিসীম। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিজ্ঞানপিপাসু পাঠকরা এই তালিকাটি ব্যবহার করে খুব সহজেই মৌলগুলোর মৌলিক তথ্যগুলো জেনে নিতে পারবেন এবং রাসায়নিক গণনা বা বিক্রিয়া বুঝতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন

বিভাগ সমূহ

হোম ব্লগ PDF